PrizebondBD
প্রাইজবন্ড সহায়িকা

প্রাইজবন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাইজবন্ড কী, কীভাবে কিনবেন ও সংরক্ষণ করবেন, কখন একটি প্রাইজবন্ড ড্রয়ে অংশ নেয়, পুরস্কার কীভাবে দেওয়া হয়, আর প্রাইজবন্ড হারালে বা নষ্ট হলে কী করবেন — সহজ ভাষায়।

প্রতি প্রাইজবন্ডের মূল্য
৳১০০
বছরে ড্র
৪ বার
ড্রয়ে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা
ন্যূনতম ২ মাস
পুরস্কার দাবির সময়
২ বছর

নির্ধারিত ড্রয়ের তারিখ

৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তারিখ বদলাতে পারে — যেমন ৩১ জুলাই ২০২৬-এর নির্ধারিত ১২৪তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২ আগস্ট ২০২৬।

পুরস্কারের তালিকা

পুরস্কারপ্রতি পুরস্কারের মূল্যপ্রতি সিরিজে সংখ্যা
প্রথম পুরস্কার৳৬,০০,০০০১টি
দ্বিতীয় পুরস্কার৳৩,২৫,০০০১টি
তৃতীয় পুরস্কার৳১,০০,০০০২টি
চতুর্থ পুরস্কার৳৫০,০০০২টি
পঞ্চম পুরস্কার৳১০,০০০৪০টি

প্রতিটি ড্রয়ে প্রতি সিরিজে মোট ৪৬টি পুরস্কার। অঙ্কগুলো কর কাটার আগের; পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫% উৎসে কর কাটা হয়।

২৫% হারটি ১২৪তম ড্রয়ের সরকারি ফলাফল থেকে নেওয়া; কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে এখনো ২০% উল্লেখ আছে। আপনার ড্রয়ে কোন হার প্রযোজ্য তা বাংলাদেশ ব্যাংকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

১প্রাইজবন্ড কী?

প্রাইজবন্ড বাংলাদেশ সরকারের একটি পুরস্কারভিত্তিক সঞ্চয় উপকরণ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিক্রি ও পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত প্রাইজবন্ডের মূল্য ১০০ টাকা।

প্রাইজবন্ডে কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না। এর বদলে বছরে চারবার ড্র হয়, আর ড্রয়ে আপনার প্রাইজবন্ডের নম্বর উঠলে পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকে। পুরস্কার না পেলেও প্রাইজবন্ডটি আপনার কাছেই থাকে এবং পরের ড্রগুলোতেও অংশ নিতে থাকে।

২কেন প্রাইজবন্ড কিনবেন?

  • মাত্র ১০০ টাকায় একটি প্রাইজবন্ড কেনা যায়।
  • প্রতিটি ড্রয়ে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকে, আর একই প্রাইজবন্ড বছরের পর বছর ড্রয়ে অংশ নেয়।
  • পুরস্কার না পেলেও প্রযোজ্য নিয়মে অভিহিত মূল্যে প্রাইজবন্ড নগদায়ন করা যায়।
  • ছোট অঙ্কে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার একটি সহজ উপায়।

৩সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধা:

  • সরকারি উপকরণ, তাই মূল টাকা হারানোর ঝুঁকি কম।
  • কেনা ও নগদায়নের প্রক্রিয়া সহজ।
  • একবার কিনলে প্রতিটি নির্ধারিত ড্রয়ে নিজে থেকেই অংশ নেয়।

সীমাবদ্ধতা:

  • কোনো নিয়মিত সুদ বা নিশ্চিত মুনাফা নেই — পুরস্কার পাওয়া পুরোপুরি ড্রয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।
  • সময়ের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কারণে ১০০ টাকার প্রকৃত মূল্য কমে যায়।
  • পুরস্কারের অর্থ থেকে উৎসে কর কাটা হয়।
  • পুরস্কার পেলে নির্ধারিত সময়ের (২ বছর) মধ্যে দাবি না করলে টাকা পাওয়া যায় না।

তাই প্রাইজবন্ডকে নিশ্চিত আয়ের বিনিয়োগ হিসেবে না দেখে, পুরস্কারের সুযোগসহ একটি সঞ্চয় হিসেবে দেখাই ভালো।

৪কীভাবে ও কোথা থেকে কিনবেন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়, তফসিলি ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর এবং জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর কার্যালয় থেকে প্রাইজবন্ড কেনা ও নগদায়ন করা যায়।

  • কাছের শাখা বা কার্যালয়ে গিয়ে প্রাইজবন্ড কিনতে চান বলে জানান এবং নগদ টাকা দিন।
  • কেনার সময় প্রতিটি প্রাইজবন্ডের সিরিজ ও নম্বর মিলিয়ে নিন, কোনো ছেঁড়া বা দাগ আছে কি না দেখে নিন।
  • কেনার তারিখ লিখে রাখুন — নতুন প্রাইজবন্ড কখন ড্রয়ে অংশ নেবে তা এই তারিখের ওপর নির্ভর করে।
সব শাখায় সব সময় প্রাইজবন্ড মজুত থাকে না। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করুন।

কেনার পর প্রাইজবন্ড শুকনো, নিরাপদ জায়গায় রাখুন, ভাঁজ বা ল্যামিনেট করবেন না, আর প্রতিটির সিরিজ ও নম্বর আলাদা কোথাও লিখে রাখুন। PrizebondBD-তে নম্বরগুলো যোগ করে রাখলে প্রতিটি ড্রয়ের পর মিলিয়ে দেখার কাজও আমরা করে দিই।

৫সিরিজ ও নম্বর কীভাবে চিনবেন

প্রতিটি প্রাইজবন্ডের নিচের ডান কোণে দুটি অংশ ছাপা থাকে: দুই অক্ষরের একটি বাংলা সিরিজ (যেমন কখ বা খষ) এবং সাত অঙ্কের একটি নম্বর (যেমন ০৬৮৬৩০৩)। নম্বরের শুরুতে শূন্য থাকলে সেগুলোও নম্বরের অংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ড্রয়ে একটিই বিজয়ী নম্বরের তালিকা প্রকাশ করে, যা সেই ড্রয়ে প্রচলিত সব সিরিজের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য (“একক সাধারণ পদ্ধতি”)। অর্থাৎ বিজয়ী নম্বর ০৭৮৬৩৪৫ হলে, ওই ড্রয়ে প্রযোজ্য প্রতিটি সিরিজের ০৭৮৬৩৪৫ নম্বরের প্রাইজবন্ডই পুরস্কার পাবে।

১২৪তম ড্রয়ে ৮৫টি সিরিজ প্রযোজ্য ছিল, তাই প্রতি সিরিজে ৪৬টি করে মোট ৩,৯১০টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নতুন সিরিজ বাজারে এলে এই সংখ্যা বাড়ে।

৬নতুন প্রাইজবন্ড কখন ড্রয়ে অংশ নেয় (২ মাসের নিয়ম)

প্রাইজবন্ড বিক্রির তারিখ থেকে অন্তত ২ মাস পূর্ণ হলে তবেই সেটি ড্রয়ে অংশ নিতে পারে। ড্রয়ের তারিখের আগে ২ মাস পূর্ণ না হলে সেই ড্রয়ে নম্বর মিললেও পুরস্কার পাওয়া যাবে না; প্রাইজবন্ডটি পরের ড্র থেকে অংশ নেবে।

উদাহরণ: ১৫ সেপ্টেম্বর কেনা একটি প্রাইজবন্ড ৩১ অক্টোবরের ড্রয়ে অংশ নিতে পারবে না, কারণ তখনো দুই মাস পূর্ণ হয়নি। এটি পরের ড্র, অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির ড্র থেকে অংশ নেবে।

PrizebondBD এখনো প্রতিটি প্রাইজবন্ডের কেনার তারিখ রাখে না, তাই এই নিয়মটি আমাদের মিলিয়ে দেখার হিসাবে ধরা হয় না। সদ্য কেনা প্রাইজবন্ডে নম্বর মিললে এই নিয়মটি নিজে যাচাই করে নিন।

৭প্রাইজবন্ড নগদায়ন

প্রাইজবন্ড যেসব জায়গা থেকে কেনা যায়, সেখান থেকেই অভিহিত মূল্যে (১০০ টাকা) নগদায়ন করা যায়। মূল প্রাইজবন্ডটি সঙ্গে নিয়ে যান।

পুরস্কারের টাকা দাবি করা আলাদা প্রক্রিয়া — তার জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। বিস্তারিত জানতে আমাদের পুরস্কার দাবির নির্দেশিকা দেখুন।

৮প্রাইজবন্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে

নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ প্রাইজবন্ড: ছেঁড়া, পোড়া বা অন্যভাবে নষ্ট প্রাইজবন্ডের মূল্য বদলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ মে ২০২৬ তারিখে একটি হালনাগাদ ফরম প্রকাশ করেছে (ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং ০৭/২০২৬)। নষ্ট অংশসহ পুরো প্রাইজবন্ডটি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা আপনার ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করুন।

হারানো প্রাইজবন্ড: প্রাইজবন্ডে মালিকের নাম লেখা থাকে না, যার হাতে থাকে সে-ই এর ধারক। তাই হারিয়ে গেলে তা ফেরত পাওয়া কঠিন। প্রতিটি প্রাইজবন্ডের সিরিজ ও নম্বর আলাদা করে লিখে রাখুন এবং হারালে দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।

হারানো প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিকার আছে কি না, তা আমরা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করতে পারিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকে সরাসরি জেনে নিন।

৯প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্রের পার্থক্য

  • সঞ্চয়পত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্ধারিত হারে মুনাফা দেওয়া হয়; প্রাইজবন্ডে কোনো মুনাফা নেই, শুধু ড্রয়ে পুরস্কারের সুযোগ।
  • সঞ্চয়পত্র কেনা ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত হয়; প্রাইজবন্ড ধারকের হাতে থাকে, নাম লেখা থাকে না।
  • সঞ্চয়পত্রের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে; প্রাইজবন্ড যতদিন রাখবেন, ততদিন ড্রয়ে অংশ নেবে।
  • প্রাইজবন্ড মাত্র ১০০ টাকায় কেনা যায়; সঞ্চয়পত্রের ন্যূনতম মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার, ক্রয়সীমা ও কাগজপত্রের নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায় — জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রাইজবন্ড কি নিশ্চিত লাভের বিনিয়োগ?

না। প্রাইজবন্ডে কোনো সুদ বা নিশ্চিত মুনাফা নেই। পুরস্কার পাওয়া সম্পূর্ণভাবে ড্রয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, তবে প্রাইজবন্ডটি অভিহিত মূল্যে নগদায়ন করা যায়।

একই নম্বর কি সব সিরিজে পুরস্কার পায়?

হ্যাঁ। প্রতিটি ড্রয়ে একটিই বিজয়ী নম্বরের তালিকা প্রকাশ হয়, যা ওই ড্রয়ে প্রযোজ্য সব সিরিজের জন্য প্রযোজ্য। তবে আপনার প্রাইজবন্ডের সিরিজটি ওই ড্রয়ের প্রযোজ্য সিরিজের তালিকায় থাকতে হবে।

বছরে কয়বার ড্র হয়?

বছরে চারবার — ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। ছুটির দিন বা অন্য কারণে কর্তৃপক্ষ তারিখ বদলাতে পারে।

সদ্য কেনা প্রাইজবন্ড কি পরের ড্রয়েই অংশ নেবে?

বিক্রির তারিখ থেকে অন্তত ২ মাস পূর্ণ হলে তবেই প্রাইজবন্ড ড্রয়ে অংশ নিতে পারে। ড্রয়ের আগে ২ মাস পূর্ণ না হলে সেটি পরের ড্র থেকে অংশ নেবে।

প্রতি ড্রয়ে কতগুলো পুরস্কার দেওয়া হয়?

প্রতি সিরিজে ৪৬টি পুরস্কার। ১২৪তম ড্রয়ে ৮৫টি সিরিজ প্রযোজ্য ছিল, তাই মোট ৩,৯১০টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার পেলে কত দিনের মধ্যে দাবি করতে হবে?

ড্রয়ের তারিখ থেকে ২ বছরের মধ্যে। এই সময়ের পরে দাবি করলে পুরস্কারের টাকা পাওয়া যায় না।

PrizebondBD কি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল সেবা?

না। PrizebondBD একটি স্বতন্ত্র প্রাইজবন্ড তথ্য ও ফলাফল যাচাই সেবা। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও যাচাই করে আপনার প্রাইজবন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। পুরস্কার দাবি করতে হয় সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে।

সরকারি তথ্যসূত্র

জেনে রাখুন

PrizebondBD একটি স্বতন্ত্র তথ্যসেবা, কোনো সরকারি দপ্তর নয়। নিয়ম বদলাতে পারে — কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় নিশ্চিত হয়ে নিন।

প্রাইজবন্ডের নিয়মকানুন ও বিস্তারিত · PrizebondBD